স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিও নীতিমালা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক,
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট: ০৬:১৪ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৮

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন ভাতাদি ও অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।

নীতিমালায় জনবল কাঠামো ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় প্রধানসহ ৫ জন শিক্ষক থাকবেন। এদের মধ্যে একজন ইবতেদায়ি প্রধান, ৩ জন ইবতেদায়ি সহকারী শিক্ষক এবং ইবতেদায়ি ক্বারী শিক্ষক একজন। ইবতেদায়ি প্রধান ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) ১১তম গ্রেডে বেতন পান। সেই হিসেবে ইবতেদায়ি শিক্ষকরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমান মর্যাদা পাচ্ছেন। ইবতেদায়ি সহকারী শিক্ষক এবং ইবতেদায়ি ক্বারী শিক্ষক ১৬তম গ্রেডে বেতন পাবেন।

ইবতেদায়ি প্রধানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম ফাজিল পাস বা স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। ইবতেদায়ি মাদরাসার সহকারী শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা আলিম বা এসএসসি সমমান (বিজ্ঞান) পাস এবং ক্বারী শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে দাখিল মুজাব্বিদ অথবা আলিম মুজাব্বিদ মাহির।

নীতিমালা অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসায় পাঠদানের অনুমোদনের ২ বছর শেষে একাডেমিক স্বীকৃতির আবেদন করা যাবে। একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়ার তিন বছর পর শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা/অনুদানের আবেদন করা যাবে। পাঠদানের অনুমতি ৪ বছরের মধ্যে একাডেমিক স্বীকৃতি না পেলে পাঠদানের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

একাডেমিক স্বীকৃতি প্রতি ৫ বছর অন্তর নির্ধারিত ফি প্রদানসহ কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নবায়ন করা যাবে। কোন শর্তের ভঙ্গ হলে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড তদন্ত করে করে পাঠদানের অনুমতি ও একাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল করতে পারবে। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন ভাতাদি/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮ তে এসব শর্ত রাখা হয়েছে।
এদিকে জনবল কাঠামো ও বেতন-ভাতার নীতিমালা প্রকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান।

উল্লেখ্য, মাদরাসা শিক্ষাধারার প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ইবতেদায়ি স্তর হিসেবে পরিচিত। যেসব মাদরাসায় দাখিল, আলিম, ফাজিল ইত্যাদি স্তরের সাথে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সংযুক্ত স্তরকে সংযুক্ত ইবতেদায়ি মাদরাসা আর যেসব মাদরাসায় শুধু প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়, সেগুলোকে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা বলা হয়।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদন মতে দেশে ৩ হাজার ৪৩৩টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার ২৪৩জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী সংখ্যা ৫ লক্ষাধিক।

শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী শিক্ষার অন্যান্য ধারার সাথে সমন্বয় রেখে ইবতেদায়ি পর্যায়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বাংলাদেশ স্টাডিজ, আইসিটির মত বিষয়গুলো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সাথে প্রতিষ্ঠানগলোতে ধর্মীয় শিক্ষার বিষয়গুলো পড়ানো হয়।

নীতিমালা দেখুন:

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)